ইলুমিনাতি সিরিজ (পর্বঃ ০৬)

Masud

MMI Adam
Staff member
Nov 10, 2019
184
7
18
Saudi Arabia
81539117_173620903838303_5241884967746666496_n.jpg81711199_173620920504968_8783068903250067456_n.jpg81752296_173620943838299_5659885491529449472_n.jpg82241561_173620963838297_1178879286216491008_n.jpg79322662_173620983838295_6480697026475458560_n.jpg
পর্বঃ ছয়
জিও-ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এজেন্ডা-২১ বা ২০৩০

হলিউডে কিছু কিছু পরিচালক ভবিষ্যতের পৃথিবী কেমন হতে পারে তার সম্ভাবনা নিয়ে মুভি বানায়। যেমনঃ টার্মিনেটর, এই সিনেমায় দেখানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্বলিত যন্ত্র বা রোবট মানুষের হাত থেকে কমান্ড নিয়ে মানুষকে জিম্মি করে ফেলে। ৯০' এর দশকে এটা ফিকশন মনে হতো। কিন্তু, বর্তমানে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের উন্নতিতে বিজ্ঞানীরা ওই মুভির আশংকাই যেন অনেকটা করছে।

জিওস্ট্রম মুভিটাও তেমন একটা মুভি। আর এতে দেখানো জিও-ইঞ্জিয়ারিং মোটেও সুদূর ভবিষ্যতের বিষয় না। মহানবী ভবিষ্যতবানী করে গেছেন যে দাজ্জালের হাতে আবহাওয়া নিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা থাকবে। সে ইচ্ছেমতন বৃষ্টি বা ক্ষরা দিয়ে মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করবে আর অনেক মানুষ প্রভাবিত হবে।

এবার আসি যুক্তির কথায়! আমাদের অনেকেই হয়তো জানিনা বিশ্বের বড় বড় বিজ্ঞানীরা আবহাওয়া কে নিয়ন্ত্রনের বেশ কিছু পথ আবিষ্কার করে ফেলেছে যার সাহায্যে বৃষ্টি, খরা, ঝড়, টর্নেডো, ভূকম্পন, বজ্রঝড়, এমনকি মেঘ তৈরী করতে সক্ষম। যেমন-তেমন মেঘ নয় আসল মেঘ! সেই মেঘে বৃষ্টিও হয়। শুনতে অনেকটা কল্পকাহিনীর মতন লাগে, কিন্তু এটা বাস্তব!

নাসা সম্প্রতি কৃত্রিমভাবে মেঘ তৈরী করেছে। হাইড্রোজেন আর অক্সিজেন মিক্স করে মেঘ তৈরী করে তা আকাশে ছাড়া হয়। কিছুদিন আগে বিবিসির এক রিপোর্টে এমন একটা প্রতিবেদন দেখানো হয়েছিল যেখানে মেঘ তৈরী থেকে তা থেকে বৃষ্টি হওয়া পর্যন্ত সব দেখানো হয়েছিল। এই মেঘ সূর্যরশ্মি কে প্রতিরোধ করতে ব্যাবহার করা হতে পারে। ফলে যেখানে এটা ব্যাবহার করা হবে সেখানে সূর্যের আলো না আসতে পারার কারন তাপমাত্রা কমে যাবে।

জলবায়ু নিয়ন্ত্রনের আরেক উপায় হলো "ক্লাউড সিডিং"। এখানে চার্জড আয়োনিক মলিকিউল কে ব্যাবহার করা হয় প্লেনের মাধ্যমে। এটা দ্বারা এক স্থানের মেঘ কে অন্য স্থানে সরিয়ে তা থেকে বৃষ্টিপাত সৃষ্টি করা হবে বা হয় বলে জানা যায়। গালফ্ কান্ট্রিতে এই প্রযুক্তি ব্যাবহারের কথা জানা যায়। যেখানে বৃষ্টি দরকার সেখানে নেগেটিভ চার্জ ব্যাবহার করে আশপাশের মেঘকে টেনে আনা হয় এবং যেখানে খরা দরকার সেখানে পজেটিভ আয়ন ব্যাবহার করে সেখানকার মেঘকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়।

High-Frequency Active Auroral Research প্রোগ্রাম (HAARP)। ওয়েদার ইঞ্জিনিয়ারিং এর সবচেয়ে ভয়ংকর অস্ত্র এই হার্প। এতে থাকা এলুমিমিয়াম এন্টেনা থেকে পৃথিবীর আয়নোস্ফিয়ার বা আয়ন মন্ডলে ফ্রিকুয়েন্সি বা তরঙ্গ প্রেরন করা হয়। এরপর এক জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটা দ্বারা ঝড় সৃষ্টি করা হয়। এই হার্প ভূগর্ভে চৌম্বকীয় তরঙ্গ প্রেরন করে টেকটনিক প্লেটে ফাটল সৃষ্টির মাধ্যমে ভূকম্পন এবং সুনামি সৃষ্টিতে সক্ষম। হার্পের বেশ কিছু শাখা সারা দুনিয়া জুড়ে রয়েছে যার একটি শাখা আছে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে।
ধারনা করা হয় আমেরিকা তে হওয়া হ্যারিকেন ক্যাটরিনা এই হার্পের ফসল। ২০১৭ সালে আমেরিকায় হওয়া হ্যারিকেন হার্ভে এবং ইর্মা যে এই হার্পের পরীক্ষার ফসল তা ভুল করে ফক্স নিউজের সংবাদপাঠিকা বলে ফেলে।

এবার যে জিনিসটা নিয়ে বলবো তা হচ্ছে আরেকটি মারাত্বক অস্ত্র যার নাম "কেমট্রেইল"। আকাশে বিমান যাবার পর পেছন দিকে যে সাদা ধোয়ার মতন দেখা যায় তাকে বলে " কনট্রেইল"।এটা শুধু জলীয়বাষ্প। কেমট্রেইলও দেখতে প্রায় একই রকম এবং এটাও প্লেনের মাধ্যমে একইভাবে আকাশে স্প্রে করা হয়। কিন্তু কেমট্রেইলে থাকে নানান রকম রাসায়নিক পদার্থ যা মানুষেকে ক্যান্সার পর্যন্ত উপহার দিতে পারে।

সর্বশেষ আছে লেজার স্যাটেলাইট যা "জিওস্ট্রম" মুভিতে দেখানো হয়েছে। জিওইঞ্জিয়ারিং এর একজন প্রধান তিনি (নামটা মনে আসছেনা) এক সাক্ষাতকারে নিশ্চিত করেছেন যে আমেরিকার দুটো লেজার স্যাট পৃথিবীর কক্ষপথে কর্মরত আছে। এই স্যাটের মাধ্যমে যে কি পরিমান ধ্বংস সাধন করা যায় তা জিওস্ট্রম মুভিতে দেখানো হয়েছে। নতুন করে বলার কিছু নেই।

এইসব প্রযুক্তি কেন? পরিবেশ সুরক্ষায় নাকি এর পেছনে অন্যকোন কারন আছে! এর জবাব জানতে জানতে হবে "এজেন্ডা ২১ " সম্পর্কে।

পশ্চিমা তথাকথিত এলিট নেতারা ভাবেন এই পৃথিবীর বিপুল জনসংখ্যা বিরাট এক ঝুঁকি। এর কারনে পৃথিবীতে দূষন বাড়ছে। শেষ হয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক সব মজুত। তাই তারা চাচ্ছিলো ২১ সালের ভেতর এই পৃথিবীর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন করতে। খুব ভাল শোনায় জিনিসটা, তাই না? জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন তো সবাই চায়। কিন্তু তারা ২১ সালের এর ভেতর এই পৃথিবীর জনসংখ্যা ৫০০ কোটি করার চেষ্টা করবে যেখানে বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ৮০০ কোটি।

কোন সভ্য উপায়ে করা হবে? ২১ সালের ভেতর সম্ভব না হওয়াতে তারা এই প্রজেক্ট ৩০ সাল পর্যন্ত লম্বা করেছে। আমার কথায় বিশ্বাস করার দরকার নেই। ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করলেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে। করোনা যেন এরই এক ফসল, লক্ষ্য করলে দেখবেন ইলুমিনাটির নেতারা আক্রান্ত হলেও সুস্থ হয়ে উঠবে, তাদের কাছে ভাইরাস তৈরির আগেই যেন মেডিসিন তৈরি ছিলো। যা হোক সব তাদের সাজানো নাটক, এসব কথা এখন বলতে চাইনা।

চিত্র ১--> কৃত্রিম মেঘ তৈরী।
চিত্র ২--> ক্লাউড সিডিং।
চিত্র ৩--> হার্প।
চিত্র ৪--> কনট্রেইল এবং কেমট্রেইল।
চিত্র ৫--> লেসার স্যাট।