ইলুমিনাতি সিরিজ (পর্বঃ ০৫)

Masud

MMI Adam
Staff member
Nov 10, 2019
184
7
18
Saudi Arabia
81280910_173537930513267_5176172651017666560_n.jpg81898771_173537950513265_2476302375631978496_n.jpg81037380_173537987179928_1980136560913285120_n.jpg81598849_173538010513259_1892817419064311808_n.jpg

পর্বঃ পাঁচ
ব্যাক্তিগত তথ্যের সংগ্রহ

গত ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর গুগল কনফার্ম করেছে তারা তাদের সব ইউজারদের লোকেশন তাদের আর্কাইভে জমা রাখবে ম্যাসেজ সেন্ডিং ক্যাপাসিটি বাড়ানোর জন্য, হাস্যকর ব্যাপার! ম্যাসেজ সেন্ডিং ক্যাপাসিটি বাড়ানোর জন্য আপনার বিনা অনুমতিতে আপনার লোকেশন ট্রাক করবে। আপনি কোথায় কখন কিভাবে যাচ্ছেন না যাচ্ছেন তা সব তারা রেকর্ডে রাখবে। আপনি আপনার ফোনে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার সহ ডজন ডজন এপ্লিকেশন ইনস্টল করে রেখেছেন। কখনো ভালো করে খেয়াল করেছেন তারা আপনাকে সেবা দিতে কি কি পারমিশন চায়? উদাহরণ দিচ্ছি একটা যারা এন্ড্রোয়েড ব্যবহারকারী আছেন তারা প্লে স্টোর থেকে Facebook Lite এপটি ইন্সটল করে নিন। আপনার ফেসবুক একাউন্ট এ লগিন করার চেষ্টা করবেন, কিন্তু পাসওয়ার্ডটা ভূল রেখেই লগিন বাটনে ক্লিক করবেন। ইনকারেক্ট দেখানোর আগে Contact Permission চাইবে। কেন? এখানে Contact Permission চাওয়ার কি মানে? পাসওয়ার্ড ঠিক নাকি ভূল এটা তারা তাদের সার্ভারের সাথে মিলিয়ে দেখবে, ঠিক হলে এপে ঢুকতে দিবে না হলে Incorrect Password বলবে।

আসলে যখন আমরা ভূল পাসওয়ার্ড দেই তখন সেই "Incorrect Password" দেখে আমাদের অবচেতন মন কিছুটা অবসাদ গ্রস্থ হয়ে পড়ে, যেসময় আমাদের তুলনামূলক কারো কথা শোনা সহনীয় হয়ে যায়। ঠিক সেই সময়ই Contact List এর পারমিশনটা চাইবে, যেখানে সকল সেভ করা পরিচিত, আত্মীয়দের নাম্বার থাকবে, নাম থাকবে। অথচ, পাসওয়ার্ড সঠিক কিনা ভূল তার সাথে আপনার মোবাইলের সেভ করা নম্বর গুলোর কি লেনদেন? এসবের মাধ্যমে আরো অনেক তথ্য তারা বের করে ফেলবে যা এখন আর আলোচনা করতে চাচ্ছি না।

আপনার ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, গ্যালারী মানে এককথায় বলতে গেলে পুরো ফোনের নিয়ন্ত্রন এর ক্ষমতা তারা চায়। আর আপনিও তাদের সেই অনুমতি দিয়ে দিচ্ছেন। আপনার কি মনে হয় তারা এই পারমিশন কেন চায়? যদি ভাবেন শুধু আপনাকে সার্ভিস দিতে এই পারমিশন চায় তবে আরেকবার ভাবুন!

আপনার গ্যালারীতে কি আছে না আছে তার সব ডেটা কি তারা সংরক্ষন করার ক্ষমতা রাখেনা? হয়তো রাখছেও। তারা আসলে আপনার পার্সোনাল ডেটা কালেক্ট করছে। এমনকি আপনার ফোনের ক্যামেরা দ্বারা তারা আপনার ওপর সরাসরি নজরদারি করতে সক্ষম। সম্প্রতি আইফোন টেন বা এক্স এর ফেস ডিটেকশন প্রযুক্তির ত্রুটি দ্বারা জিনিসটা সামনে এসেছে। দেখা গেছে যে আপনার ক্যামেরা বন্ধ থাকলেও আইফোন কত্তৃপক্ষ আপনার ছবি বা ভিডিও সংগ্রহ করতে সক্ষম।

বিশ্বাস হচ্ছেনা? ইন্টারনেট আছে, সার্চ করুন! আপনার গ্যালারী থেকে শুরু করে লাইভ পিকচার তারা সংগ্রহ করতে সক্ষম। বাংলাদেশ সরকার যেমন তার সকল নাগরিকের সকল তথ্য সংগ্রহে রাখতে চায় প্লাস্টিক আইডি কার্ডের মাধ্যমে তেমনি one world order প্রতিষ্ঠায় বিশ্বের একক সরকার চায় তার সকল নাগরিকের সব তথ্য পার্সোনাল বা সামাজিক সবই নিজেদের নখদর্পনে রাখতে। শুধু তাই না, আপনার ফোনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট scanner দিয়ে আপনার বায়োমেট্রিক ডেটা তাদের হাতে চলে যাচ্ছে। একটা নাগরিকের বায়োমেট্রিক ডেটা যে কতটা গুরুত্ব রাখে তা সামান্যবোধ সম্পন্ন মানুষও জানে। আইফোন কোম্পানী তাদের নতুন ফোনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট scanner রাখেনি। রেখেছে ফেস ডিটেকশন টেকনোলজি। একবার প্রশ্ন করেছেন নিজেকে এর কারন কি!

তারা এখন ফিঙ্গারপ্রিন্ট চায়না শুধু, চায় তার ফেসের খুটিনাটি যেন সময়মতন সেগুলোকে ইচ্ছেমতন ব্যাবহার করা যায়। অনেক ফোনে আছে রেটিনা scan প্রযুক্তি। এইসব বায়োমেট্রিক ডেটা নিজেদের সংগ্রহে রেখে বিশ্বের সকল নাগরিকদের ওপর নিয়ন্ত্রন রাখতে চায় এই ইলুমিনাটি। আপনারা জানেন কিনা জানিনা, ইন্সট্রাগ্রামের একটা অর্জন উপলক্ষ্যে মার্ক জুকারবার্গ একটা ছবি পোস্ট করে যেখানে টেবিলে রাখা তার ল্যাপটপের ওয়েবক্যামে কালো টেপ দিয়ে ঢাকা দেখা যায়। বিষয়টা ভাইরাল হবার পর কোন রাখঢাক না করেই জুকার স্বীকার করে সে এমন করেছে যেন কেউ তার ল্যাপটপ দিয়ে তার ওপর নজরদারী না করতে পারে। ভাবুন, আপনার কত অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি আর ভিডিও নিয়ন্ত্রক সংস্থার হাতে গেছে বা যেতে পারে! আপনি আপনার স্বামী বা স্ত্রীর সাথে শুয়ে আছেন বিছানায়, আপনার অসতর্কতার কারনে সেই অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও আপনাকেই ব্লাকমেইল করতে ব্যাবহার করা কি খুব অসম্ভব?

এইবার আসি একটা মজার তথ্যে। আপনি কি জানেন মার্ক জুকারবার্গ আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সী বা সি আইএ (CIA) এর পুরষ্কারপ্রাপ্ত একজন এজেন্ট? তিনি পুরষ্কার কি বিষয়ে পেয়েছে জানেন?

" একক ব্যাক্তি হিসাবে সবচেয়ে বেশি মানুষের ডেটা কালেকশন করার জন্য "
বিলিভ না হয় ইন্টারনেট ঘাটুন!​

সেদিন এক সাক্ষাতকার অনুষ্ঠানের ভিডিওতে মার্কের আচরনে হতবাক হয়ে গেলাম। মার্ক নিজেই তার জ্যাকেট খুলে ভেতরের অংশে তার নিজের ভাষায় "তাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য" দেখাচ্ছিল। সেখানে থাকা ইলুমিনাটির সিম্বলটি নিজেই খানিকটা ব্যাখ্যা করে দিল, যদিও তা মজার ছলে!

৫০০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করা হয়েছে সি আই এ সমর্থিত ব্যাংক একাউন্ট থেকে ফেসবুক কে। গুজব তো এটাও আছে মার্ক জুকারবার্গ ইলুমিনাটি ব্লাডলাইন রকেফেলার পরিবারের সদস্য। ফেসবুক তৈরীতে নাকি সি আই এ তথা ইলুমিনাটির অবদান ছিল। আমি ফেসবুকে অরিজিনাল তথ্য দিয়ে আইডি খুলিনি কখনো। যারা খুলেছেন তারা জানেন যে ফেসবুকের পার্সোনাল ডেটা কিন্তু পার্সোনাল নেই।

ইলুমিনাটি কিভাবে আপনার আমার সবার জীবনকে নিয়ন্ত্রন করতে কত রকমের অস্ত্র কতভাবে ব্যাবহার করছে তা ব্যাখা করতে গেলে মোটা বই লিখতে হবে। Amazon সহ বড় বড় সব সংস্থা যে ইলুমিনাটির লক্ষ্য পূরনে কাজ করছে তা একদম দিনের আলোর মতন উজ্জ্বল। এটা বললাম একটা দিক কিভাবে সেই দাজ্জালের আগমনে আমরা বাধ্য হবো তার বাধ্য হতে। আশা করছি আরো কিছু দিক সামারাইজ করতে পারবো।

চিত্র ১ --> সি আই এ কতৃক জুকার কে পুরষ্কার প্রদান।
চিত্র ২ --> জুকারের ল্যাপটপের ওয়েবক্যাম কালো টেপ দিয়ে কভার করা।
চিত্র ৩ --> মার্কের জ্যাকেট।
চিত্র ৪ --> জ্যাকেটের নিচের চিত্র।