ইলুমিনাতি সিরিজ (পর্বঃ ০৪)

Masud

MMI Adam
Staff member
Nov 10, 2019
184
7
18
Saudi Arabia
81044657_173345393865854_8069614534043631616_n.jpg82132462_173345417199185_8344617385881239552_n.jpg82248488_173345437199183_8977136025562251264_n.jpg

পর্বঃ চার
ডিজিটাল কারেন্সি এবং নজরদারি

জেনে অবাক লাগবে যে বর্তমান যুগের প্রায় সব সেলিব্রেটিই ইলুমিনাটি বা এমন সংস্থা কতৃক বিরাট অংকের অর্থ নিচ্ছে শুধু তাদের সাইন আর কিছু শয়তানী প্রথা পালনকে তার ফ্যানদের মাঝে বিতরন করার জন্য। পশ্চিমা সেলিব্রেটিরা তো বটেই এমনকি এই উপমহাদেশের বহু নায়ক নায়িকা গায়ক গায়িকা পরিচালক তাদের অনুষ্ঠানে ইলুমিনাটির প্রচার করে থাকে। ইন্ডিয়ান আইডল এদের একটা। আর বিগ বস নামক অনুষ্ঠানে তো সরাসরি লুসিফার বা শয়তানের উপসনার বিভিন্ন বিষয় ডামি হিসাবে প্রাকটিস করানো হয়। সালমান শাহরুক সহ প্রায় সব সেলেব এই সংস্থার দাস হিসাবে কাজ করছে জেনে বা না জেনে তা তাদের অনুষ্ঠান দেখলেই বোঝা যায়। এখন আপনাদের বিষয় আপনারা কার ফ্যান হবেন!

ডিজিটাল কারেন্সি এবং নজরদারি
আগে আলোচনা করলাম কিভাবে মনের ভেতর গেথে দেওয়া হচ্ছে ইলুমিনাটির বীজ। মানে মাইন্ড বা অভ্যান্তরীন কন্ট্রোল।
এবার যা বলবো সেটা হচ্ছে বাইরে দিয়ে কোন মানুষকে কিভাবে নিয়ন্ত্রন করতে চাচ্ছে এই ইলুমিনাটি।​

ডিজিটাল কারেন্সি হচ্ছে সেই টাকা যেটা আমাদের বিকাশ, রকেট, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডে সংরক্ষিত থাকে। আর যে কাগজের টাকা আমরা পকেটে নিয়ে ঘুরি তা হলো ক্যাশ কারেন্সি। বর্তমান যুগে কোন মানুষকে বাহ্যিকভাবে নিয়ন্ত্রন করার সেরা উপায় হলো তার অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রন করা। কথায় আছে "তোকে হাতে মারবো না, ভাতে মারবো।" এই কথার অর্থ আমাদের চেয়ে পশ্চিমা বিশ্ব খুব ভাল করে জেনেছে।।তাই তারা চায় মানুষের টাকা যেন তাদের নিয়ন্ত্রনে থাকে।।কিন্তু এটা ততদিন পর্যন্ত সম্ভব না যতদিন মানুষ কাগজের টাকা বা ক্যাশ কারেন্সি ব্যাবহার করছে। কারন কোন দেশের সরকার চাইলে আপনার লুকিয়ে রাখা টাকা বের করে আপনাকে ফতুর করতে পারবেনা কিন্তু চাইলেই আপনার বিকাশ, রকেট বা এটিএম কার্ড বন্ধ করে দিতে পারে। তাই এই ইলুমিনাটি ব্রেইন চায় সারা বিশ্ব থেকে ক্যাশ কারেন্সি বা কাগজের টাকা উঠিয়ে দিতে। সবাই যেন ডিজিটাল কারেন্সি ব্যাবহার করে। একবার ভেবে দেখুন এমন এক বিশ্ব যেখানে সবাই ডিজিটাল কারেন্সি ব্যাবহার করছে। তার সব ব্যাংক ব্যালেন্স ডিজিটাইজড। মানে তার পুরো অর্থনীতি সরকারের হাতে জিম্মি। আপনি সরকারের বিরুদ্ধে যাবেন।সরকার চাইলেই আপনাকে এক মুহূর্তে পথের ফকির করে সরকারের সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য করতে পারে। মানে সেই ব্যাক্তির ওপর পুরো নিয়ন্ত্রন। এই লক্ষ্যে তারা ডিজিটাল কারেন্সিকে প্রমোট করছে নানা ভাবে। পন্য ক্রয়ে ডিজিটাল কারেন্সি ব্যাবহারে বিভিন্ন রকম ছাড়ের পসরা বসিয়ে মানুষকে আগ্রহী করে তুলবে বা তুলছে এবং তারা সফলও হচ্ছে। গত ২ দশকে এই উপমহাদেশের মানুষ কি পরিমানে ডিজিটাল কারেন্সির ওপর ভরসা করছে তা ৩০ এর আশেপাশের যেকোন মানুষ একটু ভাবলেই বুঝে যাবে। কয়েক বছর আগে ভারতে নোটবন্দি করেও ডিজিটাল কারেন্সি ব্যাবহারে আগ্রহী করা হয়েছে। সেই সময়ে অনেক মানুষের কাছেই ক্যাশ কারেন্সির কমতি ছিল। তার ওপর তাদের অনেকেই সেই সময়ে ডিজিটাল কার্ড ব্যাবহারে ঝামেলার মুখোমুখি হয়ে সাময়িকভাবে ফকিরি হালতে চলে গিয়েছিল। ক্যাশ ছিল না, টাকা ছিল কার্ডে আর কার্ডও গৃহীত হচ্ছিল না। ঠিক এই জিনিসটাই হতে যাচ্ছে হয়তো অদূর ভবিষ্যতে। ক্যাশলেস এক বিশ্ব যার অর্থনীতি পুরোপুরি একটা সংস্থার নিয়ন্ত্রনে।

এই ডিজিটাল নিয়ন্ত্রনকে পোক্ত করতে নতুন সংযোজন হচ্ছে Radio frequency identity chip বা সংক্ষেপে RFID চিপ। চালের আকারের এটা এমন এক চিপ যা মানুষের তর্জনী আর বৃদ্ধাঙ্গুলের মাঝে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ইনজেক্ট করা হয়। এই চিপের মাঝে থাকবে আপনার যাবতীয় তথ্য। ন্যাশনাল আইডি লাগবেনা। লাগবেনা কোন ডেবিট ক্রেডিট কার্ড। অথবা কোন কোম্পানীতে জব করেন, লাগবেনা কোন পাঞ্চ কার্ড৷ এই চিপের মাধ্যমে আপনি আপনার দরজার লক খুলতে পারবেন। আপনি কিডন্যাপ হয়েছেন? এই চিপের জিপিএস সিস্টেম বলে দেবে আপনার অবস্থান। খুব দারুন একটা জিনিস তাইনা?

শুনতে একটু কাল্পনিক মনে হলেও এটা বাস্তব, আপনি যত ইচ্ছে অনুসন্ধান ও গবেষণা করতে পারেন। সুইডেনের এক কোম্পানী তার ১৫০ জন কর্মচারীর হাতে এই চিপ লাগিয়েছিল পরীক্ষামূলক ভাবে। এখানেই শেষ না! অস্ট্রেলিয়া তার কিছু নাগরিকদের হাতে এই চিপ ইমপ্লান্ট করেছে সম্প্রতি।

আপনার যাবতীয় তথ্য ব্যাংক একাউন্ট এর তথ্য সহ তাবত সম্পত্তি থাকবে ওই চিপে। ক্যাশলেস পৃথিবীতেও কোন কার্ড নিয়ে ঘোরা লাগবেনা আপনাকে। শুধু চিপ লাগানো হাতটা থাকলেই হবে। ওটা দিয়েই সবরকমের অর্থ লেনদেন করা যাবে। কিন্তু এই চিপ ডিএক্টিভেশনের ক্ষমতা কিন্তু থাকছে আপনার দেশের সরকার তথা ইলুমিনাটির হাতে। তার বিপক্ষে গিয়েছেন তো আপনাকে বউ বাচ্চা নিয়ে রাস্তায় নামাতে তাদের সময় লাগবে ১ সেকেন্ড। আর এটা বলাই বাহুল্য যে সংস্থা আমেরিকাকে নিয়ন্ত্রন করে মানে সে পুরো বিশ্বকে নিয়ন্ত্রন করে। তবে ভবিষ্যতে প্লাস্টিক আইডি কার্ডের মতন যে এই চিপ আমাদের হাতে পরতে হবে তা মোটামুটি নিশ্চিত।

এই কার্ড যে শুধু অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রন করবে তা নয়। আপনি কখন কোথায় যাচ্ছেন তা প্রতি সেকেন্ডে জানতে পারবে। এই কাজটা বর্তমানে করা হচ্ছে স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে এটা মনে হয় বেশিরভাগ মানুষই জানেনা। গত বছরের ২২ নভেম্বর কোন রাখ-ঢাক না রেখেই গুগল ঘোষনা করে দিল তারা সকল গুগল ইউজারদের সকল তথ্য তাদের আর্কাইভে জমা করে রাখবে আর নজরদারী করবে ইউজারদের।

চিত্র ১ --> বলিউডে গেঞ্জিতে ইলুমিনাটির চিহ্ন পিরামিড এবং হাত দিয়ে পিরামিড বানানো হচ্ছে।
চিত্র ২ --> হাত দিয়ে শয়তানের শিং বা ডেভিলস হর্ন বানানো হচ্ছে, গেঞ্জিতেও তাই। হাতে ইলুমিনাতির অল সিয়িং আই এবং হাত গোল করে যে চিহ্ন বানানো হচ্ছে তা হলো 666 যা শয়তানের সিম্বল।
চিত্র ৩-- RFID চিপ।